OBC : আর্থিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ওবিসি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এর সঙ্গে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই, বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলার জনরব ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর কল্যাণ কমিশনের সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া নতুন ওবিসি তালিকা আজ মঙ্গলবার দশই জুন বিধানসভায় পেশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই তালিকা পেশ করার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় বলেছেন,“ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে কোনও ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। আর্থিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সমীক্ষা হয়েছে। ওবিসি এ বিভাগে ৪৯টি এবং ওবিসি বি বিভাগে ৯১টি শ্রেণি রয়েছে। আরও ৫০টি অন্তর্ভুক্ত হবে। সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোদলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় অসত্য ভাষণ দিচ্ছেন এই অভিযোগ করে বিধানসভার অধিবেশন বয়কট করে বিজেপি বিধায়করা।বিধানসভার গেটের বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এই প্রসঙ্গে বিজেপি পরিষদীয় দলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলনেতাকে বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল । কিন্তু স্পিকার তেমনটা করেননি। তাই তাদের এই প্রতিবাদ বলে জানিয়েছে বিজেপি।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাবেন।
সম্প্রতি রাজ্যের ওবিসি (অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ নীতি নিয়ে হাইকোর্টের রায় মেনে সংশোধিত তালিকার খসড়া অনুমোদন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা। গত ২ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনগ্রসর কল্যাণ দফতরের তরফে একটি সংশোধিত (আপডেটেড) তালিকা পেশ করা হলে তাতে সিলমোহর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তালিকা অনুযায়ী, আইনি জটিলতা দূর করতে আগে থাকা ৬৬টি জাতির সংখ্যা কমিয়ে ৬৪ করা হয়েছে এবং নতুন করে ৭৬টি জাতি সংযোজিত হয়েছে। ফলে রাজ্যে স্বীকৃত ওবিসি জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১৪০-এ।
মঙ্গলবার বিধানসভায় এই নিয়ে ‘অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি’ রুখতে বক্তৃতা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন আর্থিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সমীক্ষা করা হয়েছে। তাই ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও তাঁর এই দাবি মানতে চায়নি বিরোধী দল বিজেপি। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের রাজনীতির কারণে প্রকৃত ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্তেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

